জেনে নিন আধুনিক বিট রুট চাষ পদ্ধতি

বিট রুট চাষ কেন লাভজনক?

বিট রুট বাংলাদেশের অন্যতম লাভজনক শীতকালীন সবজি। এক বিঘা জমিতে মাত্র ১০১২ হাজার টাকা খরচ করে ৫০৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। কীটনাশক ও বিষ ব্যবহার না করেও চাষ করা যায় বলে উৎপাদন খরচও কম।

কম খরচে অধিক লাভ: আধুনিক পদ্ধতিতে পুষ্টিকর বিট রুট চাষ

সালাদ, জুস কিংবা অভিজাত হোটেলের নানা পদের রান্নায় ইদানীং একটি  বিট রুট সবজির চাহিদা আকাশচুম্বী। দেখতে অনেকটা পালং শাকের মতো হলেও এর ভেতরের গাঢ় লালচে-বেগুনি রঙ আর অনন্য পুষ্টিগুণ একে অন্য সবজি থেকে আলাদা করেছে। গড়ে ২০০ গ্রাম থেকে আধা কেজি ওজনের এই সবজিটি চাষ করে বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষকেরা বিপুল লাভবান হচ্ছেন।

এই গাইডে আপনি জানবেনবিট রুট চাষের সম্পূর্ণ পদ্ধতি: বীজ বপন থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত।

বিট রুট চাষ সম্পর্কে দ্রুত তথ্য

বিষয়

তথ্য

চাষের মৌসুম

অক্টোবরজানুয়ারি (উত্তম); আগস্টফেব্রুয়ারি (সম্পূর্ণ সময়)

বীজের পরিমাণ

৪৭০৫৩০ গ্রাম প্রতি বিঘা

ফলন সময়

বীজ বপনের ৭০৮০ দিন পর

বিঘাপ্রতি ফলন

১০.৬৭১৩.৩৩ টন

খরচ (প্রতি বিঘা)

১০,০০০১২,০০০ টাকা

আয় (খরচ বাদে)

৫০,০০০৬০,০০০ টাকা

মাটির pH

..

উপযুক্ত মাটি

বেলে দোআঁশ, দোআঁশ, এঁটেল মাটি

 

দ্রুত উত্তর: বিট রুট চাষের সেরা সময় অক্টোবর থেকে জানুয়ারি। এক বিঘায় খরচ ১২ হাজার, আয় সম্ভব ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

শীতকালীন ফসলের বৈচিত্র্য ও লাভের অভাব

ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের দেশের কৃষকেরা শীতকালে আলু, সরিষা বা সাধারণ কিছু সবজি চাষেই সীমাবদ্ধ থাকেন। ফলস্বরূপ, বাজারে যখন একসাথে প্রচুর সরবরাহ বাড়ে, তখন ফসলের সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। এছাড়া অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়, যা সাধারণ কৃষকের মুনাফাকে কমিয়ে দেয়।

বিট রুট চাষ করে কি লাভবান হওয়া যায়?

হ্যাঁ। বাংলাদেশে শীতকালীন সবজি হিসেবে বিট রুট চাষ বর্তমানে একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগ। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও বাজারে এর চাহিদা ও মূল্য বেশি হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

বিশেষ করে স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তা, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, জুস বার এবং সুপারশপ গুলোতে বিট রুটের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে।

বিট রুট কী এবং এটি দেখতে কেমন?

বিট রুট (Beetroot) একটি পুষ্টিকর মূলজাতীয় সবজি, যার বৈজ্ঞানিক নাম Beta vulgaris

বিটরুট দেখতে অনেকটা পালংশাকের মতো, তবে রঙে ভিন্ন। এর ভেতরের রং গাঢ় লালচেবেগুনি প্রতিটি বিটের ওজন গড়ে ২০০ গ্রাম থেকে আধা কেজি পর্যন্ত হয়। পুষ্টিকর এই সবজি সালাদ, রান্না ও জুস হিসেবে জনপ্রিয়বিশেষত অভিজাত হোটেল ও রেস্তোরাঁয়।

বিট রুটে রয়েছে

  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
  • আয়রন
  • ফলেট
  • পটাশিয়াম
  • খাদ্য আঁশ
  • প্রাকৃতিক নাইট্রেট

যা হৃদরোগ প্রতিরোধ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

ধাপে ধাপে বিট রুট চাষ পদ্ধতি

বিট রুট মূলত ঠান্ডা ও আর্দ্র জলবায়ুর ফসল হলেও এটি উচ্চ তাপমাত্রা ও খরাসহিষ্ণু। ফলে বাংলাদেশের শীতকালীন আবহাওয়া এর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

ধাপ ১ — সঠিক জমি নির্বাচন

বিট রুট চাষে সঠিক জমি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপযুক্ত জমির বৈশিষ্ট্য:

  • পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় এমন উন্মুক্ত জমি।
  • সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে।
  • বেলে দোআঁশ, দোআঁশ বা এঁটেল মাটি।
  • মাটির pH .০ থেকে ৭.এর মধ্যে।
  • জৈব সারে সমৃদ্ধ উর্বর মাটি।

উপযুক্ত আবহাওয়া: ঠান্ডা ও আর্দ্র জলবায়ু। বাংলাদেশের শীতকালীন আবহাওয়া বিট রুট চাষের জন্য আদর্শ।

ধাপ ২ — জমি ও বীজতলা তৈরি

জমি তৈরির পদ্ধতি:

. জমিতে ৪৫টি গভীর চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা ও সমান করুন।

. দুই সারিতে চারা রোপণের জন্য ১৫২০ সেমি উঁচু বেড তৈরি করুন।

. দুটি বেডের মাঝে ৩০ সেমি চওড়া ১০১৫ সেমি গভীর নালা রাখুন যাতায়াত ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ৪. নালার মাটি তুলে বেড আরও উঁচু করুন,

বীজতলা তৈরির পদ্ধতি:

  • পানি নিষ্কাশনের সুবিধাসহ উন্মুক্ত জায়গায় বীজতলা করুন।
  • বীজতলার মাটি অত্যন্ত মিহি করে তৈরি করুন।
  • এঁটেল মাটি হলে কিছু বালি মিশিয়ে নিন।
  • মিটার × মিটার মাপের বীজতলা তৈরি করুন।
  • বীজতলার কাছে পানির উৎস রাখুন।

ধাপ ৩ — বীজ বপনের সময় ও পদ্ধতি

  1. বীজ বপনের সর্বোত্তম সময়: অক্টোবর থেকে জানুয়ারি। 
  2. বীজ বপন করা যাবে: আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বীজ বপনের পদ্ধতি:

  • আগে ভালো বিটরুট বীজ নির্বাচন করুন।
  • ২০ ইঞ্চি দূরে দূরে তৈরি রিজ/আইলের উপর বীজ বপন করুন।
  • প্রতিটি বীজ ২০ সেমি দূরে দূরে এবং সেমি গভীরে বপন করুন।
  • কাঙ্ক্ষিত গাছের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পাশাপাশি দুটি গর্তে ১টি করে বীজ বপন করুন।
  • ২০২৫ দিন পর প্রতি ২০ সেমিতে একটি গাছ রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলুন।

ধাপ ৪ — সার প্রয়োগ পদ্ধতি

সঠিক সার ব্যবস্থাপনা বিট রুটের ভালো ফলন নিশ্চিত করে।

জমি চাষের আগে:

  • সম্পূর্ণ জৈব সার (পচা গোবর) সমানভাবে জমিতে ছিটিয়ে দিন।

রিজ করার আগে (একসাথে প্রয়োগ করুন):

  • সম্পূর্ণ TSP, জিপসাম, দস্তা ও বোরণ।
  • একতৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও পটাশ সার।

উপরি সার প্রয়োগ:

  • বীজ বপনের ৩০ দিন পরবাকি অর্ধেক ইউরিয়া ও পটাশ।
  • বীজ বপনের ৬০ দিন পরবাকি ইউরিয়া ও পটাশ।

ধাপ ৫ — সেচ পদ্ধতি

বিট রুটের সক্রিয় মূল মাটির ২০০২৫০ সেমি গভীরে পৌঁছায় এবং ৬০ সেমি গভীর থেকে প্রায় ৭০% পানি গ্রহণ করে। তাই সেচ ব্যবস্থাপনা সঠিক রাখা জরুরি।

সেচের নিয়ম:

  • মাটির আর্দ্রতা সবসময় ৬৫%-এর উপরে রাখতে হবে।
  • জীবনকালে মোট বার সেচ প্রয়োজন।
  • বীজ বপনের পরপরই প্রথম সেচ দিন (রিজ সম্পূর্ণ ভেজানো পর্যন্ত)। 
  • এরপর ১৫২০ দিন পরপর সেচ দিন।
  • ফসল তোলার ১৫২০ দিন আগে সেচ বন্ধ করুন।
  • তবে মাটি অতিরিক্ত শুকিয়ে গেলে সহজে বিট তোলার জন্য হালকা সেচ দেওয়া যাবে।

মনে রাখুন: প্রতি ১০০ কেজি বিট উৎপাদনে প্রায় ৪০৪৫ কেজি পানি প্রয়োজন হয়।

ধাপ ৬ — আগাছা দমন ও গোড়ায় মাটি দেওয়া

বিট রুট একটি মূলজাতীয় ফসল। আগাছামুক্ত জমি এবং গোড়ায় মাটি দেওয়া ভালো ফলনের চাবিকাঠি।

আগাছা দমনের তিনটি ধাপ:

ধাপ

সময় (বীজ বপনের পর)

প্রথম আগাছা দমন

২৫৩০ দিন পর

দ্বিতীয় আগাছা দমন

৪৫৫০ দিন পর

তৃতীয় আগাছা দমন

৭০৮০ দিন পর

বীজ বপনের পর ৯০১০০ দিন পর্যন্ত জমি আগাছামুক্ত রাখুন। আগাছা বেশি হলে অতিরিক্ত দমনের ব্যবস্থা নিন।

গোড়ায় মাটি দেওয়া: দ্বিতীয় বার সার প্রয়োগের পর গোড়ায় মাটি দিনতবে খেয়াল রাখুন গাছের মাথায় (Crown) যেন মাটি না পড়ে।

ধাপ ৭ — ফসল সংগ্রহ

বিট রুট সংগ্রহের সঠিক সময় পদ্ধতি

  • বিট রুটের উপরের অংশ (Shoulder) মাটির উপরে দৃশ্যমান হলে সাধারণত ফসল সংগ্রহের উপযুক্ত সময় হয়েছে বলে ধরা হয়।
  • অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিট রুটের আকার গলফ বল থেকে টেনিস বলের সমান হলে সর্বোত্তম মান ও স্বাদ পাওয়া যায়।
  • অনেক বেশি সময় জমিতে রেখে দিলে বিট বড় আকার ধারণ করলেও এর গুণগত মান কমে যেতে পারে এবং শাঁস কিছুটা শক্ত বা আঁশযুক্ত হয়ে যেতে পারে।
  • ফসল সংগ্রহের আগে মাটি সামান্য ভেজা থাকলে বিট উত্তোলন সহজ হয় এবং মূল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
  • কোদাল বা হাত খুন্তি ব্যবহার করে সতর্কতার সঙ্গে মাটি আলগা করে বিট তুলে নিতে হবে।
  • বাজারজাত করার আগে বিটের পাতা কেটে পরিষ্কার করে গ্রেডিং করলে সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধাজনক হয়।
সংগ্রহকাল: সাধারণত বীজ বপনের ৫০-৮০ দিনের মধ্যে (জাত ও আবহাওয়া ভেদে) বিট রুট সংগ্রহ করা যায়।

বিট রুটের রোগবালাই ও প্রতিকার

বিটরুটে সাধারণত রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায় মেঘলা, আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায়। তাই চাষের পুরো সময় নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

  1. প্রতিদিন গাছ পর্যবেক্ষণ করুন এবং রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
  2. জমিতে অতিরিক্ত পানি জমতে দেবেন না এবং ভালো নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
  3. আক্রান্ত পাতা বা গাছ অপসারণ করে জমি পরিষ্কার রাখুন।
  4. পর্যাপ্ত গাছের দূরত্ব বজায় রাখলে বাতাস চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং রোগের ঝুঁকি কমে।
  5. জৈব ব্যবস্থাপনায় নিমভিত্তিক পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
  6. প্রয়োজনে কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করুন।

পরামর্শ: যেকোনো বালাইনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহারের আগে অবশ্যই পণ্যের লেবেল নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা সময় (Pre-Harvest Interval) মেনে চলুন।

টবে বা ছাদ বাগানে বিট রুট চাষ

শুধু মাঠেই নয়, বাড়ির ছাদ বা উঠানেও সহজে বিট রুট চাষ করা যায়।

মাটি তৈরি করুন:

  • কোকো পিট + বাগানের মাটি + নিম খোল + গোবর সার বা সরষের খোল পচা সার একসাথে মিশিয়ে নিন
  • ১০ ইঞ্চি টবে মাটি ভরে ১০১৫ দিন আগে পানি দিয়ে প্রস্তুত করুন

চারা রোপণ পরিচর্যা: . নার্সারি থেকে চারা কিনে প্রতিটি টবে একটি করে লাগান ২. প্রথম দিন ছায়ায় রাখুন ৩. দুবেলা নিয়মিত পানি দিন ৪. গাছ একটু বড় হলে রোদে রাখুন

উঠানে চাষ: বাড়ির সামনের উঠানেও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বিট রুট বপন করা যায়।

বিট রুট চাষের দ্রুত পরামর্শ

  1.  বিট রুটের বীজ সরাসরি জমিতে বপন করা উত্তম। বীজ বপনের পর মাটির আর্দ্রতা সমান রাখতে হবে। মাটি একবার শুকিয়ে গেলে পুনরায় ভিজিয়ে দেওয়া অঙ্কুরোদগমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
  2. সাধারণত বীজ বপনের ১০১৫ দিনের মধ্যে অঙ্কুরোদগম শুরু হয়।
  3.  জাত ও আবহাওয়া ভেদে ৫০৬০ দিনের মধ্যে বিট রুট সংগ্রহের উপযোগী হয়ে ওঠে।
  4.  বিট রুটের শিকড় মাটির উপরের প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার (১ ফুট) স্তর থেকে অধিকাংশ পানি গ্রহণ করে। তাই কয়েকটি পাতা গজানোর পর ঘন ঘন সেচের প্রয়োজন হয় না।
  5. সুস্থ ও বড় আকারের মূল গঠনের জন্য গাছ পাতলা (Thinning) করতে হবে। অতিরিক্ত চারাগুলো তুলে ফেললে অবশিষ্ট গাছ পর্যাপ্ত জায়গা পায় এবং ফলন ভালো হয়।
  6.  পাতলা করার সময় তুলে নেওয়া কচি পাতা ও চারা সালাদ বা রান্নায় ব্যবহার করা যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: বিট রুট চাষের সবচেয়ে ভালো সময় কখন?

উত্তর: অক্টোবর থেকে জানুয়ারি বিট রুট চাষের সর্বোত্তম সময়। তবে আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বীজ বপন করা যায়।

প্রশ্ন: এক বিঘা জমিতে বিট রুট চাষে কত বীজ লাগে?

উত্তর: প্রতি বিঘায় ৪৭০ থেকে ৫৩০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন।

প্রশ্ন: বিট রুট কত দিনে তোলা যায়?

উত্তর: বীজ বপনের ৭০৮০ দিনের মধ্যে বিট রুট বিক্রির উপযুক্ত হয়।

প্রশ্ন: বিট রুট চাষে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় কি?

উত্তর: না। সাধারণত বিট রুট চাষে কীটনাশক ও বিষ প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। এটি এই ফসলের একটি বড় সুবিধাউৎপাদন খরচ কম থাকে।

প্রশ্ন: বিট রুটের জন্য কোন ধরনের মাটি সবচেয়ে ভালো?

উত্তর: বেলে দোআঁশ, দোআঁশ ও এঁটেল মাটিতে বিট রুট ভালো জন্মে। মাটির pH .০ থেকে ৭.এর মধ্যে থাকলে সবচেয়ে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: এক বিঘায় বিট রুট চাষে কত টাকা লাভ হয়?

উত্তর: এক বিঘায় খরচ হয় ১০১২ হাজার টাকা এবং খরচ বাদে ৫০৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

সংক্ষিপ্ত চাষ ক্যালেন্ডার

সময়

কাজ

আগস্ট

জমি প্রস্তুত ও বীজতলা তৈরি

অক্টোবরনভেম্বর

মূল জমিতে বীজ বপন (উত্তম সময়)

বপনের ২৫৩০ দিন পর

প্রথম আগাছা দমন

বপনের ৩০ দিন পর

উপরি সার প্রয়োগ (প্রথম কিস্তি)

বপনের ৪৫৫০ দিন পর

দ্বিতীয় আগাছা দমন

বপনের ৬০ দিন পর

উপরি সার প্রয়োগ (দ্বিতীয় কিস্তি) + গোড়ায় মাটি

বপনের ৭০৮০ দিন পর

তৃতীয় আগাছা দমন

উত্তোলনের ১৫২০ দিন আগে

সেচ বন্ধ করুন

বপনের ৭০৮০ দিন পর

ফসল সংগ্রহ

বিট রুট বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য একটি অত্যন্ত লাভজনক শীতকালীন ফসল। কম খরচে বেশি লাভ, কীটনাশকমুক্ত চাষ এবং বাজারে উচ্চ চাহিদাএই তিনটি কারণে বিট রুট চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করলে এক বিঘায় ১০ টনেরও বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব।

এই তথ্য বীজঘর কৃষি কথা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত। কৃষি বিষয়ক আরও তথ্যের জন্য বীজঘর ব্লগ অনুসরণ করুন।

তথ্য যাচাই ও গবেষণা ভিত্তি

  1. Rashid, Md. Harun-Ar (2020). Feasibility study of beetroot cultivation and sale in Bangladesh. ResearchGate. (বাংলাদেশে বিট রুট চাষের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা ও বাজা রবিশ্লেষণ)
  2. Chemi Journal (2017). Production and profitability of beetroot (Beta vulgaris L.) as influenced by sowing dates and spacing. Vol. 5, Issue 5. (বীজ বপনের সময় ও দূরত্বের উপর ভিত্তিক ফলন গবেষণা)
  3. Utah State University Extension – How to Grow Beets in Your Garden — মাটি, সার, সেচ ও পরিচর্যা নির্দেশিকা।
  4. West Virginia University Extension – Growing Beets — বীজ বপন, দূরত্ব ও pH সম্পর্কিত তথ্য।
  5. Royal Horticultural Society (RHS) – How to Grow Beetroot — বেড প্রস্তুতি, আগাছা ব্যবস্থাপনা ও টবে চাষ।
  6. Texas A&M AgriLife Extension – Beets Production Guide — বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালি পর্যায়ে চাষাবাদ।
  7. Oregon State University Extension – Beets Guide — সেচ, অঙ্কুরোদগম ও ফলন ব্যবস্থাপনা।

About the Author

মসরুর জুনাইদ (Mosrur Zunaid) একজন এগ্রো-এন্টারপ্রেনিউর, কৃষি গবেষক এবং Agrinofy-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। তিনি বাংলাদেশে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও ডেটা-চালিত টেকসই কৃষি অবকাঠামো গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন … 


Discover more from BeejGhor.com

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

3 thoughts on “জেনে নিন আধুনিক বিট রুট চাষ পদ্ধতি”

মতামত দিন

Item added to cart.
0 items - 0.00
Need Help?