বীজ গজানো বা জার্মিনেশন করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি

বীজ থেকে চারা গজানো প্রক্রিয়াই হলো অঙ্কুরোদগম বা জার্মিনেশন পদ্ধতি। বীজ জার্মিনেশনের জন্য গুনগত মানের বীজের পাশাপাশি সঠিক পরিমাণে পানি, তাপ ও অক্সিজেন প্রয়োজন।

তাই বীজ বপনের আগে বীজের গুনগত মান ঠিক আছে কি না, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। গুনগত মানের বীজের জন্য ভালো ব্র্যান্ডের বীজ কিনতে হবে সবসময়; বাজার থেকে খোলা বীজ কিনা যাবে না।

এছাড়া সঠিক বীজ জার্মিনেশন পদ্ধতি জানা না থাকার কারণে, অনেক সময় মানসম্পন্ন বীজ বপনের পরেও ভালো ভাবে গজায় না।

তাই আজ আমরা এই নিবন্ধে আধুনিক বীজ গজানোর বা জার্মিনেশন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।

বীজ গজানো বা অঙ্কুরোদগমের ধাপ সমূহ

বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হওয়ার জন্য প্রথমেই বীজ ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। এছাড়া মিষ্টিকুমড়া, শিম, বরবটি, লাউ, শশা ,তরমুজ, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা জাতীয় বীজের ক্ষেত্রে

  • পেকেটের বা সংগ্রহে রাখা বীজ গুলি সুপ্ত অবস্থায় থাকে, রোদ পেলে সুপ্ততা ভাঙে।
  • ভালো অঙ্কুরোদগমের জন্য বীজের সুপ্ততা ভাঙতে বীজ গুলো প্রথমে রোদে ৩০-৪৫ মিনিট শুকিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর রোদ থেকে উঠায়ে বীজ গুলো ২ থেকে ৩ ঘন্টা ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে ঠান্ডা করে নিতে হবে।
  • তারপর পরিষ্কার পানিতে ১০-১২ ঘন্টা বীজ গুলো ভিজিয়ে রাখুন।
  • এছাড়া প্রোভ্যাক্স বা কার্বেন্ডাজিম বা ট্রাইকোডার্মা পাউডার (৩ গ্রাম/১ লিটার পানিতে) বীজ গুলো আরো ৩০ মিনিট ভিজিয়ে শোধন করে নেওয়া উত্তম।
  • এবার পানি থেকে বীজ গুলো তুলে নিয়ে ভেজা কাপড়ের পুটলি বা পাটের ছালা বা টিস্যু পেপার এ মুড়িয়ে হালকা (খুবই অল্প) পানি স্প্রে করে লেপ/তোষক বা পরা লুঙ্গির গিঁটে বা বক্সে (যেন বাতাস না ঢুকে এমন বক্স বা বয়ামে) রেখে দুই থেকে চার দিন পর চেক করুন।
  • দেখবেন বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছে। অনেক বীজের অঙ্কুরোদগম হতে বেশী সময় লাগতে পারে।

বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার সাথে সাথে অঙ্কুর বড় না করে অঙ্কুরিত বীজ সিডলিং ট্রে, আইস্ক্রীমের কাপ বা টবে সাবধানতার সাথে লাগাবেন যাতে বীজের অঙ্কুর ভাঙ্গে না যায়।

বীজের উপরে কোকোডাস্ট বা মাটি দিয়ে হালকা পানি দিতে হবে। প্রতিদিন রস কম – বেশি বুঝে সময় করে পানি দিতে হবে।

এছাড়া ড্যাম্পিং অফ বা গোড়া পঁচা রোগ থেকে চারা বাঁচাতে কপার গ্রুপের ঔষধ ২ গ্রাম/১ লি পানি মিশিয়ে গাছসহ মাটিতে স্প্রে করতে হবে।

ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, টমেটো, মরিচ, ক্যাপসিকাম, বেগুন (ছোট বীজ) জাতীয় বীজ ক্ষেত্রে

  • এসব বীজের সুপ্ততা ভাঙতে প্রথমে ৩০-৪৫ মিনিট কড়া রোদে বীজ গুলো শুকিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর রোদ থেকে উঠায়ে বীজ গুলো ২ থেকে ৩ ঘন্টা ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে ঠান্ডা করে নিতে হবে।
  • তারপর পরিষ্কার পানিতে ৪-৫ ঘন্টা বীজ গুলো ভিজিয়ে রাখুন।
  • এছাড়া প্রোভ্যাক্স বা কার্বেন্ডাজিম বা ট্রাইকোডার্মা পাউডার (৩ গ্রাম/১ লিটার পানিতে) বীজ গুলো আরো ৩০ মিনিট ভিজিয়ে শোধন করে নেওয়া উত্তম।
  • এবার বীজ গুলো পানি থেকে উঠিয়ে সিডলিং ট্রে বা পলিব্যাগ বা টবে ছিটিয়ে দিন। তার উপরে হালকা করে কোকোডাস্ট বা ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে দিন এমনভাবে যেন বীজ দেখা না যায়।
  • সিডলিং ট্রে বা টব বা পাত্রের উপরে ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন, যেন ভাপ উৎপন্ন হয়৷
  • তিন থেকে সাত দিন পর চেক করুন।
  • বীজ অঙ্কুরিত করার জন্য অন্ধকার ও ভাপ উৎপন্ন হলে দ্রুত অঙ্কুরিত হয়। ৭-১০ দিন এর মধ্যে বীজ অংকুরিত হয়ে যায়৷
  • দেখবেন বীজ অংকুরিত হচ্ছে। তারপর ভেজা কাপড় খুলে পানি স্প্রে করে রেখে দিন৷
  • প্রতিদিন রস কম-বেশি বুঝে সময় করে পানি দিবেন।

বীজ লাগানো টবে বা সিডলিং ট্রে বা পাত্রের মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। ঝুরঝুরে কিছু মাটি বা কোকোডাস্ট আলাদা করে রাখতে হবে যেটা বীজ বপনের পর দিতে হবে। মাটির সাথে সম্ভব হলে বালু, জৈব সার, ভার্মি কম্পোস্ট, হাড়ের গুড়া অথবা শুধুমাত্র রেডি কোকোপিট ব্যবহার করা উত্তম।

ড্যাম্পিং অফ বা গোড়া পঁচা রোগ দুরীকরনে কপার গ্রুপের ঔষধ ২ গ্রাম/১ লি পানি আকারে স্প্রে করতে হবে৷

শেষ কথা

কিছু বীজ বাদে বাকী বীজ গুলো ২-৩ দিনেই জার্মিনেশন হয়ে যায়। বীজ অতিরিক্ত জার্মিনেশ (জার্মিনেশ হয়ে বেশি বড়) হয়ে গেলে চারা ভালো হয় না।

কৃতজ্ঞতা: কৃষিবিদ শিবব্রত ভৌমিক, কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি ইউনিট, পিকেএসএফ এবং সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা।

বগ্লে প্রকাশিত কোনও তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

আরো পড়ুন … 

**চাষাবাদ ও কৃষি সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খবর পড়তে আজই জয়েন করুন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপ ” বীজ ঘর ( কৃষি কথা )”  হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ” বীজ ঘর ( কৃষি কথা )” অথবা  টেলিগ্রাম চ্যানেল  ”বীজ ঘর ( কৃষি কথা )’‘ এ। 

মতামত দিন

Item added to cart.
0 items - 0.00